মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০৪:২৪ অপরাহ্ন
বাংলা বাংলা English English
Notice :
***সংবাদকর্মী সংগ্রহ চলছে। যোগাযোগ-ফোনঃ ০১৬২৬৭৭৭৬৬৬ ই-মেইলঃ mnalambaec@gmail.com***

রাইডশেয়ারিং পেশাকে ধ্বংশ করার ষড়যন্ত্র।

মোঃ আশিকুর রহমান / ১৫৪৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১
ride share

রাইডশেয়ারিং পেশাকে ধ্বংশ করার ষড়যন্ত্র।

যে সকল ভাই ও বোনের বিভিন্ম এ্যাপস ব্যবহার করে রাইড শেয়ার করছেন তাদের সবাইকে শুভেচ্ছা ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে সমসাময়িক একটি সম্কট নিয়ে কিছু কথা বলার চেষ্টা করছি। “ইনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট” রাইডশেয়ারিং পেশাকে ধ্বংশ করার ষড়যন্ত্র ও কোম্পানির গোলাম বানানের নীল নকশা ছাড়া কিছুই না৷

বিআরটিএ রাইড শেয়ারিং “ইনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট” কি এবং কেন? প্রিয় D R D U এর সকল সদস্য ও অন্যন্ন সকল রাইড শেয়ারকারী ভাইয়েরা “এ‍নলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট” হলো বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত একটি আইন/নীতিমালা।Ride Share

পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশেই সময়ের প্রয়োজনে যুগোপযোগী আইন বা নীতিমালা প্রণয়ন করা হয় যাতে সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষ সেই নীতিমালার অধীনে সুষ্ঠু ও সুন্দর-সাবলীলভাবে নিরাপত্তার সহিত প্রণীত নীতিমালার সুবিধা নিয়ে ব্যবসা- বাণিজ্য ও সামাজিক সহ সকল কর্মকান্ড পরিচালনা করতে পারে।

” ইনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট” নীতিমালা ঠিক তেমন-ই একটি নীতিমালা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি উক্ত নীতিমালাটি সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে একটি বিশেষ মহলের ব্যবসায়িক সুবিধা প্রদানের এক অনন্য তাঁবেদারির উদাহরন।

আমরা কখনো এনলিস্টমেন্ট এর বিপক্ষে না। কিন্তু
অনুচ্ছেদ -ক, ধারা-৯ মতে একজন মোটরযান মালিক মাত্র একটি মটরযান রাইডশেয়ারিং সার্ভির এর আওতায় পরিচালনা করার অনুমতি পাবেন।

কিন্তু কেন? উত্তরঃ উত্তর জানতে হলে রাইড শেয়ারিং কি সেটা জানা প্রয়োজন। রাইডশেয়ারিং হলো একটি আধুনিক সিস্টেম, যে সিস্টেমের মাধ্যমে একজন ব্যাক্তি তার গন্তব্যে আসা-যাওয়ার পথে বৈজ্ঞানিকভাবে আর একজন মানুষকে তার গন্তব্যে (নির্দিষ্ট অর্থর বিনিময়ে) পৌছে দেবে।

কিন্তু বাংলাদেশের সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বতর্মানে এটি একটি পেশা/ব্যাবসা হিসবে প্রচলিত হয়েছে, কারন এসকল দেরের বিশাল একটা জনগোষ্ঠী বেকারত্বের ছোবলে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

আজ যখন এসব বেকার জনগণ আস্তে-আস্তে বেকারত্বের গ্লানি থেকে নিজেকে মুক্ত করে বিজ্ঞানের সুফল নিয়ে রাইডশেয়ারিং কে একটি সফল স্বধীন ব্যাবসা/পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছে ঠিক তখনি একদল কুশিক্ষায় শিক্ষিত সয়তান যারা আমাদের সাধারণ মানুষের কর্তাবাবু সেজে নীতিনির্ধারকের চেয়ারে বসে আছে তারা কিছু কোম্পানির সাথে যোগসাজশে এই স্বাধীন পেশার মানুষগুলোকে আবার পরাধীনতার শীকলে আটকে অধীক মুনাফা লাভের নীল ছক তৈরি করছে।

পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও নেই যে একটি গাড়ি একটি কোম্পানির সাথেই থাকতে হবে যা এই নীতিমালাতে রাখা হয়েছে। আমাদের কর্তাবাবুরা এতো বুঝেন তাহলে গ্রুপ অব কোম্পানিগুলো কেন এমন একটা আইন দ্বারা নিয়োন্ত্রণ করেন না?

তাহলে নতুন উদ্দোক্তা তৈরি হতো। এসব গ্রুপ অব কোম্পানিগুলো যুতার কালি থেকে মাথার কালি, গার্মেন্টস থেকে গরুর ফার্ম সব ব্যাবসা পরিচালনা করছে। এদেরকে নীতিমালার আওতায় এনে বুঝাতে পারেননা গুরু পালা কৃষকের কাজ গার্মেন্টস মালিকদের নয়।

অবশ্য কর্তাবাবুরা এটা বুঝাতে পারবেননা কারন উনারা নিজেরায় ঘুষ খাইতে খাইতে এখন এক একটা গরু হয়েছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাইড শেয়ারিং একটি স্বাধীন পেশা এটাকে কিভাবে আরো সাবলীল করা যায় দয়া করে সে চিন্তাটা করুন।

এমনিতেই বিভিন্ন রাইডশেয়ারিং এ্যাপস কোম্পানিগুলো পার্টনারদের সাথে যাচ্ছে তাই ব্যাবহার করে এরপরে যদি পার্টনারদের কে আরো পরাধীন করার নীল নকশা করা হয় তাহলে এই পেশা থেকে অনেক মানুষ ঝরে যাবে, বেড়ে যাবে বেকারত্ব। একটা ঘটনা না শেয়ার করে পারছিনা।

“কয়েকমাস আগে একটা গাড়িতে উঠে কেমন যেন একটু গন্ধ পাইলাম ড্রাইভার কে বললাম সাথে সাথে ড্রাইভার গাড়ি থেকে নেমে পায়ে ধরে বললো স্যার প্লিজ কমপ্লেন করবেন না। আমি বললাম কেন রে ভাই কি কমপ্লেন করবো পা ছাড়ো। সে উত্তরে যা বললো তা শুনে আমি হতবাক।

৩-৪ দিন আগে এক যাত্রী উঠেছিল গাবতলী থেকে সে গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকয় ফিরছে সাথে এনেছে ঠান্ডা করা গরুর দুধ, ডিম, মুরগি, হাস, কবুতর, পাখির ছানা, বিড়াল ছানা ইত্যাদি ইত্যাদি। লোকাল বাসে আসার কারনে সব পচে-গলে রস বের হচ্ছে কারন ৭ ঘন্টার জার্নি সে লোকাল বাসে করে ১৫ ঘন্টায় এসেছে এখন এ্যাপস এ রিকোয়েস্ট দিয়ে এই গাড়িতে উঠেছে। অনেক ধুয়েছি কিন্তু গন্ধ যায়তেছেনা।

কিন্তু পরশু দিন এক দম্পতি এই গাড়িতে উঠেই বলে এই তোর গাড়িতে গন্ধ কিসের আমি সব খুলে বললাম, সবকিছু শুনে বললো ওকে গাড়ি চালা, আর ভালকরে গাড়ি ধুয়ে রাস্তায় নামবি, এ পর্যন্ত সব ঠিক ছিলো কিন্তু বিপত্তি ঘটলো ২০ মিনিট পর।

উনার বউ হঠাৎ করে বলে উঠলো তোমার আর স্বভাব চেঞ্জ হবেনা দেখছতো এসি চলছে জানালা-দরজা সব বন্ধ আর ১০ মিনিট পরে ছাড়তে পারতেনা? এই বলে বাধালেন ঝগড়া।

আমি জিজ্ঞেস করলাম স্যার কোন সমস্যা সে বললো তর গাড়িতে এমনিতেই গন্ধ তার উপর তুই পাদ মারছোস আবার জিজ্ঞেস করিস কি সমস্যা দাড়া এখনি হটলাইনে কল করবো, বলেই কল করলেন।

কিছুক্ষণ পরেই আমার এ্যাপ বন্ধ আমি সাসপেন্ড। আমি হটলাইনে কল করে জানতে চাইলাম আমাকে সাসপেন্ড করার করান কি? ওপার থেকে বললো আপনি গাড়িতে যাত্রী থাকা অবস্থায় পাদ মেরেছেন আমি বললাম না আমি পাদ মারিনি ঐ যাত্রী পাদ মেরেছে কারন এটা নিয়ে তাদের স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে দোষারোপ করছিলেন। তখন হটলাইন এর নম্বর থেকে যে রিপ্লাই আসে তা শুনে আমি নিজেই প্রায় অজ্ঞান। হটলাইন থেকে বলাহয় যাত্রীরা পাদদেই পারেনা এটা অসম্ভব। তাছাড়া যাত্রীরা যখন মোবাইলের মাধ্যমে কমপ্লেন করছিলো তখন কোম্পানি থেকে মোবাইলের মাধ্যমে পাদের ডিএনএ সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে প্রমান পাওয়া গেছে এই গন্ধ ওয়ালা পাদ ড্রাইভারের ই ছিল”

যইহোক গল্পটা অনেক বড় হয়ে গেল। গাড়িচালক/পার্টনারদের প্রতি এই যদি হয় এ্যাপস কোম্পানিগুলোর মানষিকতা তাহলে এই ইনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে যারা রাইড শেয়ার করছেন তাদের অবস্থা কি হবে ভেবেছেন একবারো।

করোনাকালে সকল পার্টনার ভাই ও বোনের অনেক কষ্ট করে চলছেন তা বলার অপেক্ষা রাখেনা কিন্তু না খেয়ে মরেগেছেন এমন কেউ আছে বলে আমি এখনো শুনিনি, সুতারাং প্রয়োজনে আমরা সকলে মিলে আরো কয়েক মাস এই যুদ্ধ চালাবো তবুও যতক্ষন পর্যন্ত এই আইনের সংশোধনী না আসবে ততক্ষণ অবধি আমরা কেউ ইনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট করবো না।

ও আর একটা বিষয় ২৫% নয় ১২% এর বেশি হলে এই পেশায় গাধার খাটুনি খেটে লাভ কি? যদি কোন কোম্পানি রাজি না হয় তাহলে আমরা পার্টনাররা সবাই মিলে এ্যাপ তৈরি করবো। যেই এ্যাপ হবেনা এক চোখা, মিটবে সবার প্রত্যাশা।

আজ এ পর্যন্তই সকল পার্টনার ও রায়ডাররা ভাল থাকুন সুস্থ্য থাকুন, ঘরেই থাকুন।

মোঃ নূর আলম

রাইডশেয়ারিং পার্টনার, ঢাকা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এক ক্লিকে বিভাগের খবর